বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন

সিলেটে কি জামায়াত-বিএনপি গ্রহনযোগ্যতা হারাতে বসেছে?

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৬১২ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:- ৮৫৮ জন শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের উদিত সূর্যের দিকে আবারও কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা যাচ্ছে। অপশক্তি যদি এবার ছোবল মারে, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

আর সেই যড়যন্ত্রের ছোবল মারার জন্য স্হানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব ফ্যাসিবাদিরা তাদের হাতে নিচ্ছে এমনটাই বলছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক সাধারন কর্মী। তারা বলেন, এটাকে যে বা যারা ‘ধুরছাই’ বলে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন একদিন তারাই ‘উফ’ শব্দ বের করবেন!

বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, আওয়ামিলীগ নেতারা ধীরে ধীরে তাদের অবস্হান গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এবার তারা অবলম্বল করছেন ভিন্ন পন্হা। গত ১৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থেকে তাদের চ্যালা চামুন্ডাদের দুধ কলা দিয়ে পুষেছেন তার একটাই কারন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন যেভাবেই হউক ক্ষমতায় টিকে থাকতে হবে।

সে জন্য জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে সারাদেশে ছাত্র-জনতার উপর চালানো হয় দমন-পীড়ন, হত্যা করা হয় ৮৫৮ জনকে। এর মধ্যে শুধু সিলেট বিভাগেই হত্যা করা হয় ৩১ জনকে। সারা দেশে আহত হন ১১ হাজার ৫৫১ জন এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এসব হত্যাকান্ডে জড়িত খুনীদের একটাই টার্গেট ছিল যেভাবেই হউক ক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। এর আগে বিগত ১৭ বছর পুরো দেশ জুড়ে চালানো হয়েছে বিরোধী দলের উপর ভয়ানক নির্যাতন, মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীদের, পঙ্গুত্ব বরন করে মৃত্যুর সাথে এখনও অনেকে বিছানায় কাতরাচ্ছেন।

গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হলেও দেশে রেখে গেছেন তার দলের নেতা-কর্মীদের। যারা এখন ঘুরে দাড়ানের জন্য বিভিন্ন পন্হা অবলম্বন করছেন।

সিলেট বিএনপি ও জামায়াতের স্হানীয় কয়েকজন সমর্থকের সাথে আলাপকালে পরিচয় গোপন রেখে বলেন, দেশ নতুনভাবে স্বাধীন হওয়ার পর জনগনের মধ্যে একটা আশার আলো দেখা গেলেও এখন তা আস্তে আস্তে নিভে যাচ্ছে।

কারন হিসেবে বলেন, গত ৫ আগষ্টের পর সিলেটে বিভিন্ন সংগঠনের কমিটির নির্বাচনে জামায়াত-বিএনপি অংশগ্রহন করেনি বা অংশ গ্রহন করলেও পরাজিত হয়েছেন এতে সন্দেহ হচ্ছে সিলেটে কি জামায়াত- বিএনপির গ্রহন যোগ্যতা হারাতে বসেছে? নাকি কোন কারনে আওয়ামিলীগকে ফের পুনর্বাসনের দায়ীত্ব নেয়া হয়েছে?

অপর একটি সুত্র বলছে, গত ৫ আগষ্টের পর সিলেটে সব থেকে বড় শ্রমিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত সিলেট জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের হারিয়ে আওয়ামিলীগের নেতা ময়নুল ইসলাম সভাপতি হন কি করে? কেনই বা থাকে সে সুযোগ দেয়া হল?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন, তাদের ভোটার বেশী তাই ময়নুল নির্বাচিত হয়েছেন! অথচ এই ময়নুলের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সভাপতি পদে থেকে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করার অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

শুধু এই সংগঠন নয় অন্যান্য সংগঠনেও বিএনপি-জামায়াতকে ডিঙ্গিয়ে আওয়ামিলীগের নেতারা জয় ছিনিয়ে নিচ্ছেন। আর সে কারনে সাধারন জনগনের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত কতটুকু সফলতা পাবে?

সম্প্রতি সিলেট ষ্টেশন ক্লাবের নির্বাচনেও বিজয়ী হন সিলেট জেলা আওয়ামিলীগের সহ-সভাপতি মো: শাহ মোশাহিদ আলী। তিনি সিলেট মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক স্পেশাল পিপি। এর আগে তিনি বিভাগীয় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল (দুদক) এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি’র দায়িত্ব পালন করেন।

আইন পেশার পাশাপাশি তিনি রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, জেলা ছাত্র লীগের সক-সভাপতি, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এই নেতার বিরুদ্ধে গত ২১ অক্টোবর জালালাবাদ থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩/৩২৪/৩০৭/১১৪ পেনালকোড ১৮৬০তৎসহ ১৯০৮ সনের বিস্ফোরক উপাদানবলী আইনের ৩/৪ ধারায় এ মামলাটি (নং ০৭ (১০) ২০২৪) রুজু হয়। তার বিরুদ্ধে মামলা থাকার পরও কিভাবে তিনি সিলেট ষ্টেশন ক্লাবের নির্বাচনে অংশ গ্রহন করলেন সেটা নিয়েও চলছে গুঞ্জন।

তবে কয়েকটি সুত্র বলছে, গত ১৭ বছর বিএনপি-জামায়তকে আওয়ামিলীগের যারা পুলিশি হয়রানিসহ নানা সমস্যা থেকে বাচিয়েছিলেন বা সাহায্য করেছিলেন তারাই ৫ আগষ্টের পর নজরানা (পুরস্কার) হিসেবে এসব পদ-পদবী পাচ্ছেন এমনকি এসব আওয়ামিলীগ নেতাদের বিভিন্ন মামলা থেকেও বাদ দেয়া হচ্ছে।

তবে বিশ্বস্হ সুত্র বলছে, সিলেট বিএনপি ও জামায়াতের অধিকাংশ নেতারা আওয়ামিলীগের সাথে বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন, যার কারনে তাদের বিরুদ্ধে অবস্হান নিতে গিয়েও পারছেন না! তাদের সাথে গত ১৭ বছর দহরম মহরমের ফলে বেঈমানি করতে পারছেন না অথচ এসব আওয়ামিলীগের নেতারা গত ১৭ বছর বিএনপি-জামায়াতের উপর চালিয়েছে বিভিন্ন রখম নির্যাতন।

সুত্র বলছে, এসব আওয়ামিলীগের নেতাদের উপর মামলা থাকা সত্বেও তাদের আটক বা আইনী কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার কারন কি? তা জনগনের কাছে স্পষ্ট।

বিএনপির কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ৫ আগষ্টের পুর্বে নিরীহ ছাত্র-জনতা এ দেশের জন্য জীবন দিয়ে দেশকে নতুনভাবে স্বাধীন করেছে, অথচ কিছু দালালদের জন্য খুনীরা বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে।

গত ১৭ বছর এসব নেতাদের আওয়ামিলীগের দালালি করতে দেখা গেছে। বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতা এখনও বজায় রয়েছে। তারা বলেন, তাহলে এ দেশ থেকে ফ্যাসিষ্টদের তাড়িয়ে কি লাভ হল?

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!