শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাসদ প্রার্থী সঞ্জয় কান্ত দাসের সমর্থনে নির্বাচনী প্রচার মিছিল সাংবাদিক কায়সারুল ইসলাম সুমনের মৃত্যুতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র শোক জাতীয় প্রেসক্লাবে পুরস্কৃত হলেন সিলেটের শেখ নাসির অপহণের প্রায় দেড় মাস পর অপহৃতা উদ্ধার, অপহরণকারী গ্রেফতার জৈন্তাপুরে লাল পাথর লুটের সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের হাত-পা কাটার হু ম কি হবিগঞ্জের দেউন্দি চা বাগানে ডা কা তি র চেষ্টাকালে আটক ২ ওসমানীনগরে পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেলো যুবকের আগামীকাল সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণ : নি হ ত ১৫, আ হ ত ৮০

মিসবাহ সিরাজকে অপহরনের পর পায়ের রগ কর্তনের বিষয়ে যা জানা গেল?

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৭৩৪ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি:- বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর সাবেক (পিপি) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে অপহরন করে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ঘটনাটি সিলেট জুড়ে ‘টক অফ দ্য সিলেট’ এ পরিনত হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে পরিবারের সদস্যরা গোপনীয়তা বজায় রাখায় এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যাচ্ছে না।

পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও আইনি কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কারন ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই আত্মোগপনে ছিলেন আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা।

তার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার অভিযোগে ৭টি মামলা রয়েছ। জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে মিসবাহ সিরাজের পরিবার এ ব্যাপারে গোপনীয়তা বজায় রাখছেন।

তবে বিশ্বস্হ কয়েকটি সুত্র থেকে জানা যায়, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের উপর শামিমাবাদ এলাকাসহ সিলেট নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকার ভুমি দখল এবং পিপি থাকাকালিন মিথ্যা মামলায় সরকার পক্ষের হয়ে অনেককে কারাগারে পাঠানোই ছিল তাকে অপহরন এবং রগ কাটার মুল কারন!

সুত্র থেকে জানা যায়, তিনি পিপি থাকাকালিন সময়ে আওয়ামিলীগের সাজানো মিথ্যা জঙ্গী মামলায় অনেক আসামীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এমন কি পিপি থাকাকিল সময়ে সিলেট নগরীর অনেক জায়গা তার দখলে নিয়েছেন।

তিনি সিলেট জোনাল সেটেলমেন্টের সাবেক সচিব ও কর্মকর্তাদের দিয়ে অনেক জায়গা নিজের নামে করে নিয়েছেন। কয়েকটি সুত্র জানায়, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ক্ষমতায় থাকাকালে অসহায় গরীবদের জায়গা জোরপুর্বক দখল করে নিয়েছেন।

অপরদিকে শেখ হাসিনার হুকুমে তৎকালিন মিথ্যা জঙ্গী নামক সাজানো মামলায় অনেককে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন এছাড়াও তিনি তখন বিরোদী দলের অনেককে সাজানো মামলায় জামিনে বিরোধীতা করে কারগারে পাঠান আবার অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন আদালতে মামলার শুনানিতে বিরোধীতা করবেন না বলে।

সুত্রগুলোর দাবী এসব কারনেই তাকে অপহরন করে পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছে।

এদিকে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের পরিবার থেকে দাবী করা হচ্ছে মিসবাহ সিরাজকে অপহরন করার পর তার মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে অপহরণ কারীরা।

তারা কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ নিয়ে দর কষাকষির পর ২৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে মুক্তিপণের টাকা মধ্যস্ততাকারীর হাতে তুলে দেওয়ার পর মিসবাহ সিরাজকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় সাগরদিঘীর পাড় এলাকায়।

সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে রাগীব বাবেয়া হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নগরীর সোবহানীঘাটস্থ আল হারামাইন হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা। ভোররাত ৪টার দিকে  ওই হাসপাতালে তার পায়ে অস্ত্রোপচার হয়।  অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে তিন ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়।

মিসবাহ সিরাজের উপর হামলার ঘটনা শুনেছেন জানিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে অপহরন, মারধর ও মুক্তিপন আদায় করা হয়েছে হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানি না। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে কোন তথ্য জানানো হয়নি। তারা পুলিশকে এড়িয়ে চলছেন।

তিনি বলেন, পুলিশ এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নিচ্ছে। যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা যাচ্ছে সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারা এর সাথে জড়িত তা খোঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি নগরের আল হারামাইন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এই প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে বর্তামানে তার অবস্থান কোথায় তা জানা নেই। মিসবাহ সিরাজের বিরুদ্ধে ৭টি মামলা রয়েছে  জানিয়ে তিনি বলেন, সন্ধান পেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে মিসবাহ সিরাজের চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আল হারামাইন হাসপাতালের পরিচালক ডা. চৌধুরী নাহিয়ান। তিনি বলেন, শুক্রবার ‘ভোররাত ৪টার দিকে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। যদিও স্বজনেরা বলেছেন তিনি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।

ডা. চৌধুরী নাহিয়ান আরো বলেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের বাম পায়ে হাটুর নীচে রক্তাক্ত কাটা জখম রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর সকাল ১০টার দিকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর তাকে নিয়ে যান স্বজনেরা।

এ বিষয়ে জানতে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও তার স্ত্রীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায় তবে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের মেয়ে মুনতাহা আহমদ  বলেন, ‘তার বাবার অবস্থা গুরুতর।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর বেশী কিছু জানাতে রাজী হননি তিনি। মুক্তিপন প্রদানের বিষয়েও কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন মুনতাহা।

প্রসঙ্গত, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মিসবাহ সিরাজ তিনবার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর (পিপি) দায়িত্বও পালন করেছেন দীর্ঘদিন। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্যও ছিলেন।

মিসবাহ সিরাজের স্বজনসহ একাধিক সূত্র জানা গেছে, বৃহস্পতিবার(১২ ডিসেম্বর) মধ্যরাত ১২টার দিকে মিসবাহ সিরাজ সিএনজি অটোরিকশাযোগে নগরীর সুবিদবাজারের মিয়া ফাজিল চিশত এলাকায় একটি বাসায় যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে ওই এলাকার মাসালাবাজার নামীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে পৌঁছামাত্র কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। অস্ত্রেরমুখে তাকে অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।

পরে মিসবাহ সিরাজকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় সাগরদিঘীর পাড় এলাকায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে রাগীব বাবেয়া হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নগরীর সোবহানীঘাটস্থ আল হারামাইন হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা।

পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ওই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। এরপর এভারগ্রীনের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!