সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

বানিয়াচঙ্গে পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

প্রথম সকাল ডেস্ক:- বানিয়াচঙ্গে পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদসহ সচেতন মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ওই ব্যবসায়ীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ী ও লিখিত অভিযোগ সূত্র জানায়, বানিয়াচং উপজেলা সদরের বড় বাজারে ধান চাল ব্যবসায়ী দেওয়ান দিঘির পূর্ব পাড়ের বাসিন্দা নুর আলীর কাছ থেকে ৫ বছর পূর্বে দোয়াখানী গ্রামের খেলু মিয়া ও তার পার্টনার কাদির মিয়া ৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকার ধান গ্রাম থেকে ক্রয় করে দেওয়ার জন্য নেন।

এছাড়াও কাদির মিয়া তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা কর্জ নেন। ওই টাকা নেওয়ার পর তারা দেই দিচ্ছি বলে সময় কর্তন করেন। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট খেলু মিয়া ও কাদির মিয়ার বাড়িতে গিয়ে নুর আলী টাকা চাইলে তার সাথে খারাপ আচারণ করেন তারা।

সামাজিকভাবে এর কোন প্রতিকার না পেয়ে ২৮ আগস্ট বানিয়াচঙ্গ সেনা ক্যাম্পে টাকা উদ্ধারের জন্য খেলু মিয়া ও কাদির মিয়ার বিরুদ্ধে নুর আলী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে প্রমানিত হয় খেলু মিয়া ও কাদির মিয়ার কাছে নুর আলী উল্লেখিত টাকা পান। এ সময় তারা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সময় নেন। তারা আপোষনামায় সাক্ষরও করেন। বৈঠকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে ২৫ অক্টোবর খেলু মিয়া নুর আলীর দোকানে গিয়ে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও কাদির মিয়া জামানত হিসেবে ব্যাংকের একটি চেক দেন এবং টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ১ মাসের সময় নেন। কিন্তু পরবর্তীতে খেলু মিয়া বাদী হয়ে নুর আলীর কাছে ৯ লাখ টাকা ৮৩ হাজার ৫শ টাকা পান বলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কগ-৪ আদালত হবিগঞ্জ এ তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

আদালত ওই মামলাটির সরেজমিন তদন্তের জন্য বানিয়াচং থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। বিবাদী ও স্থানীয়দের অভিযোগ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বানিয়াচং থানার ওসি তদন্ত মোঃ আব্দুর রহিম সরেজমিনে তদন্ত না করে নুর আলীর কাছে খেলু মিয়া টাকা পায় মর্মে আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদদের মধ্যে জানাজানি হলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরীফ উদ্দিন আহমেদ ঠাকুর জানান, ব্যবসায়ী নুর আলী যে খেলু মিয়া ও কাদির মিয়ার কাছে টাকা পান তা সত্য। এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় সমঝোতা বৈঠকেও আমি উপস্থিত ছিলাম। বৈঠকে খেলু মিয়া ও কাদির মিয়া টাকা ফেরত দেবেন বলে মুচলেকা দেন।

কিন্তু পরবর্তীতে তারা উল্টো নুর আলীর কাছে টাকা পান বলে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি তদন্ত আব্দুর রহিম সরেজমিনে তদন্ত না করে বশীভূত হয়ে নুর আলীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। এতে আমিসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়েছেন।

স্থানীয় মেম্বার শাহেদ মিয়া জানান, খেলু মিয়া আমার মামা। তার কাছে নুর আলী টাকা পান। আমি বার বার তার বাড়িতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করে দেই। বাকি টাকা ফেরত দেই দিচ্ছি বলে খেলু মিয়া সময় কর্তন করেন।

পরবর্তীতে আমরা দেখলাম খেলু মিয়া উল্টো নুর আলীর কাছে টাকা পান বলে একটি মামলা দায়ের করেন। প্রকৃত পক্ষে নুর আলী খেলু মিয়া ও কাদির মিয়ার কাছে টাকা পান। যা শালিসে প্রমানিত হয়েছে।

অথচ পুলিশ কোন প্রকার তদন্ত না করেই নুর আলীর বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। আমরা পুনরায় খেলু মিয়ার দায়েরকৃত অভিযোগের তদন্ত করার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি দাবি জানান।

এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার ওসি তদন্ত জানান, খেলু মিয়ার দায়েরকৃত মামলার সঠিকভাবে তদন্ত করেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020-2025 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!