নিজস্ব প্রতিবেদক:- অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিলেট ল’ কলেজ ছাত্র কল্যাণ পরিষদের কাধে ঝুলছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ভুত! অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তকমাকে কাজে লাগিয়ে চলছে গোপন সব কর্মকান্ড।
উল্ল্যেখ্য, এই সংগঠন প্রতিষ্টিত হওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগ তাদের ক্ষমতার জোরে বহুবার চেষ্টা করেছিল নিজেদের আয়ত্বে সংগঠনটি নিতে। কিন্তু সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিবাদের কারনে সেটা হয়ে উঠেনি। পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এই সংগঠনে ঢুকে পড়ে সেই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী।
প্রথমে তাদের কার্যক্রমে তেমন কিছু লক্ষ্য করা না গেলেও গত ৪ আগষ্ট ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলন চলাকালে পরিষদের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ জাকির, সাধারন সম্পাদক মেহরাজ উদ্দিন চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক শিমুল আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা তৎকালীন স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিলেট ল’ কলেজ ছাত্র কল্যাণ পরিষদ’র কমিটি বিলুপ্ত ঘোষাণা করা হয়।
এরপর আর কোন কমিটি গঠন করা না হলেও বিলুপ্ত কমিটির সদস্যদের নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দোসররা বর্তমানে সংগঠন চালিয় যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, বর্তমানে সংগঠনের সভাপতি হলেন রঞ্জিত গ্রুপের সক্রীয় কর্মী এবং পলাতক আসামী নাজমুলের উত্তরসুরী। বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া ছবিতে দেখা যায় জাকারিয়া ও মেহরাজ উদ্দিন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পলাতক আসামীদের সাথে রয়েছেন।
সিলেট ল’ কলেজ ছাত্র কল্যাণ পরিষদ’ একটি অরাজনৈতিক সামাজিক এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দোসররা তাদের মতো করে পরিচালিত করছে বলেও সুত্র থেকে জানা গেছে। বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা যায়, জাকারিয়া আহমদ জাকির সিলেট ল’ কলেজ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার জন্য অনেক লবিং করেছিলেন। সে করনে আওয়ামিলীগের অনেকের কাছে দৌড়াদৌড়িও করেও তাতে কোন লাভ হয়নি।
বর্তমানে সে তার খোলস পাল্টানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে ল’ কলেজ ছাত্র- ছাত্রী সুত্রে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সে ৪ নভেম্বর ফুলের তোড়া দিয়ে সিলেটের ডিসি ও ল’ কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির সাথে ল’ কলেজ ছাত্র কল্যাণ পরিষদের অন্যান্যদৈর নিয়ে সাক্ষাত করে বাহ বাহ কুড়ায়!
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্র- ছাত্রী জানান, মুখে হাসি অন্তরে বিষ নিয়ে এই জাকারিয়া আহমদ জাকির, মেহরাজ উদ্দিন চৌধুরী ও শিমুল আহমদের নাটক চলে। তবে এরা প্রতিদিনই গোপনে বৈঠক করে আমাদের আড়ালে।
এদিকে অপর একটি সুত্র থেকে জানা যায়, জাকারিয়া আহমদ জাকির, মেহরাজ উদ্দিন চৌধুরী ও শিমুল আহমদে ল’ কলেজে ভর্তি করানোর কথা বলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়েদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভর্তি করাতে পারতেন না।
ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে দিতেন নানা হুমকি। এমনই একজন ঐ কলেজের ছাত্রী জানান, জাকারিয়া ও তার সঙ্গীদের কাছে তার টাকা এখনও পাওনা রয়েছে। টাকা চাইতে গেলে তাকে দেয়া হয় নানা রখম হুমকি। তবে ঐ মেয়ে তার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন। তার টাকা পাওয়ার কিছু তথ্য আমাদের কাছে এসেছে।
বর্তমানে তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। এছাড়াও সুত্র থেকে জানা যায়, ল’ কলেজের পরিক্ষার সময় বিশেষ সুবিদা দেয়ার কথা বলেও কয়েকজন ছাত্রীর কাছ থেকে জাকারিয়া আহমদ জাকির, মেহরাজ মেহরাজ উদ্দিন চৌধুরী ও শিমুল আহমদ হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা।
এ ব্যাপারে জাকারিয়া আহমদ জাকিরের বক্তব্য নেয়ার জন্য কল দিলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সিলেট ল’ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম সকালকে জানান, জাকারিয়া আহমদ জাকিরের বিরুদ্ধে টাকা আত্বসাতের অভিযোগ পেয়েছি। আমরা বিষয়টির তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করব।
তিনি আরো বলেন, সে কলেজ ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে পুর্বে অনেক অপরাধ করেছে, বর্তমানে তার এসব কর্মকান্ড ছাত্রদল সাধারন ছাত্র- ছাত্রীদের সাথে নিয়ে প্রতিহত করবে। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
উল্ল্যেখ্য ৪ নভেম্বর সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ ও সিলেট ল’ কলেজের নব-নির্বাাচিত গভর্নিং বডির সভাপতি ইমরান আহমদ চৌধুরী, ল’ কলেজের প্রভাষক ফৌজিয়া আক্তার ও এডভোকেট আবু তাহেরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত ও মতবিনিময়ে দেখা যায় তাদের।